রোযা রাখা অবস্থায় ইনজেকশন, ইনহেলার, ইনসুলিন ও ডোজ নেওয়া

0
মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম-
ছাত্র, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া,
চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: রমজানের রোযা রাখা অবস্থায় ইনজেকশন, ইনহেলার, ইনসুলিন ও ডোজ নিলে এবং নাক-কান ও চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট বা কোন অসুবিধা হবে কিনা? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর: রোযা অবস্থায় ইনজেকশন ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে কিনা তা নিয়ে বর্তমান বিশ্বের মুফতিগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করলেও রোযা অবস্থায় ইনজেকশন ব্যবহার না করাই নিরাপদ ও রোযা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হতেও মুক্ত। তদুপরি প্রয়োজনে ইফতারের পর রাতের বেলায় ও ইনজেকশন দেয়া যায়। তেমনিভাবে যে সমস্ত রোগী ইনহেলার ব্যবহার ব্যতীত রোযা আদায়/পালন করতে অক্ষম তারা রমজানের পর সুস্থ হলে রমজানের রোযার ক্বাযা আদায় করবে, আর সুস্থ না হলে প্রতিটি রোযার বিনিময়ে ফিদয়া /কাফ্ফারা (প্রতি রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে দু’বেলা আহার দান অথবা অর্ধ সা তথা ২ কেজি ৫০ গ্রাম গম বা তার মূল্য প্রদান করবে। ইনসুলিন সাধারণতঃ ডায়াবেটিস রোগীরা আহারের কিছুক্ষণ পূর্বে ব্যবহার করে থাকেন। যা রোযা অবস্থায় ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বিধায় ইনসুলিন ইফতারের ঠিক সময়ে গ্রহণ করার কিছুক্ষণ পর ইফতার সামগ্রী গ্রহণ করবে। তদ্রুপ পায়খানার রাস্তায় ডোজ ব্যবহার, নাক-কান ও চোখে ড্রপ ব্যবহারে রোযা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। যেমন-ফোকহায়ে কেরাম রোযা অবস্থায় নশ টানতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং রোযা অবস্থায় এগুলোর ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় ও নিরাপদ। তবে রোযা অবস্থায় মুমূর্ষ রোগীর জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনে রক্তদানে কোন অসুবিধা নেই। অবশ্য রোযা অবস্থায় রোযাদার শরীরে রক্ত ঢুকাতে পারবে না। বিগত মাসিক তরজুমান রমজানুল মুবারক সংখ্যা ও প্রশ্নোত্তর বিভাগে এ সব মাসআলা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •