মুহাম্মদ আহমদ ছগীর নো’মান, গন্ডামারা, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম=
প্রশ্নঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সব সময় আবূ বকর ছিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু থাকতেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস এর চেয়ে আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা বেশী কেন? দলীলসহকারে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর: হযরত আবূ বকর ছিদ্দীকে আকবার রদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবী সরকারে আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সান্নিধ্য ও ছোহবত অনেক অনেক বেশী পাওয়ার এবং প্রিয় রসূলের নূরানী জবান মোবারকের হাদীস ও বাণীসমূহ বেশী বেশী শুনার সুযোগ পাওয়ার পরেও নবীজির হাদীসসমূহ কম বর্ণনা করেছেন।
প্রথমত: নেহায়ত সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করার কারণে- যাতে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামারই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ত্র“টি-বিচ্যুতির শিকার না হন।
দ্বিতীয়ত: নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করার কারণে- অর্থাৎ এত বিরাট গুরু দায়িত্ব আদায়ের আমি যোগ্য নয়।
তৃতীয়ত: অন্যান্য দায়িত্ব আদায় করতে করতে হাদীস বর্ণনা করার বিশাল দায়িত্ব যথাযথ আদায় করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। চতুর্থত: পরম করুণাময়ের মর্জি যাঁকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করেছেন তা তাঁর জন্য তিনি সহজ করে দিয়েছেন। হাদীস শরীফে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন كُلُّ ميسر لما خلق له ..الحديث “যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ সমস্ত কাজ তার জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে।”[সুনানি ইবনে মাজাহ]
সুতরাং, মহান আল্লাহ্ হযরত আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এক বিশাল খেদমত (হাদীস বর্ণনা) কবূল করেছেন আর ছিদ্দীকে আকবার রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্যান্য বিশাল বিশাল খেদমত কবূল করেছেন। এটা প্রভুর কুদরতের লীলা। তদুপরি, প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক বেশী বেশী সান্নিধ্য প্রাপ্ত বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম হাদীস শরীফ বর্ণনা থেকে নিজেদেরকে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন স্বরূপ বিরত রেখেছেন। এটা তাঁদের হাদীস না জানার দলিল বা প্রমাণ নয়।
[ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক রচিত মুকাদ্দামায়ে সহীহ মুসলিম শরীফ ও সুনানি ইবনে মাজাহ শরীফ, ১ম খন্ড ইত্যাদি] [সূত্র. যুগ-জিজ্ঞাসা, পৃ. ১০-১১]



